সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ - ০৮:৫৫
দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের পরও কেন আমার জীবনসঙ্গী আমাকে বিশ্বাস করেন না?

দাম্পত্য জীবনে অবিশ্বাসের মূল কারণ প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি। এ সমস্যা দূর করতে হলে প্রথমেই জীবনসঙ্গীর আচরণের অন্তর্নিহিত কারণ বুঝতে হবে। আচরণে স্বচ্ছতা, সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সতর্কতা এবং খোলামেলা ও আন্তরিক কথোপকথন পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এমনকি জীবনসঙ্গীর আচরণে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন না এলেও নিজের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং ধৈর্য সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বিবাহ ও পরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন রেজা ইউসুফজাদেহ দাম্পত্য জীবনে অবিশ্বাস প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

প্রশ্ন: আমার স্বামী আমাকে খুবই অবিশ্বাস করেন, আর বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। ৩০ বছর একসঙ্গে সংসার করার পরও সামান্য কোথাও বাইরে গেলে আমাকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এ পরিস্থিতিতে আমি কী করতে পারি?

উত্তর: দাম্পত্য সম্পর্কে অবিশ্বাসের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। হয়তো আপনার স্বামীর অতীতে কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, অথবা অন্যদের কাছ থেকে এমন কিছু ঘটনা শুনেছেন যা তার মনে সন্দেহের বীজ বপন করেছে। কখনও ব্যক্তিগত উদ্বেগ, মানসিক অনিরাপত্তা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝিও অবিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই প্রথমেই এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। দেখতে হবে, তিনি কেন এমন আচরণ করছেন। তিনি কি শুধু আপনার প্রতিই এমন, নাকি সন্তানদের সঙ্গেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ করেন?

আপনি যেটিকে “জিজ্ঞাসাবাদ”, “অবিশ্বাস” বা “অতিরিক্ত খুঁটিনাটি ধরার প্রবণতা” বলে মনে করছেন, তার মূল উৎস কী—সেটি ভেবে দেখা দরকার। মানুষ কেন অবিশ্বাসী হয়ে ওঠে?

অবিশ্বাসের গভীরে সাধারণত থাকে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলে জীবনসঙ্গীর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলা অনেক সহজ হয়। আপনার স্বামী যখন বারবার জানতে চান, “কোথায় গিয়েছিলে?” বা “কি করছিলে?”, তখন এর পেছনে প্রায়ই এক ধরনের অনিরাপত্তাবোধ কাজ করে।

সুতরাং সমাধানের অন্যতম পথ হলো তার মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি জাগিয়ে তোলা। আপনি যত বেশি তাকে আশ্বস্ত করতে পারবেন, ততই তার সন্দেহপ্রবণতা ও অতিরিক্ত প্রশ্ন করার প্রবণতা কমতে পারে।

১. আচরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন: যে বিষয়গুলোতে অস্পষ্টতা রয়েছে বা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে, সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কথা বলুন। “তিনি আমাকে জেরা করছেন” এভাবে না ভেবে বরং এভাবে ভাবা যেতে পারে যে, “তিনি সম্পর্কের মধ্যে আরও নিরাপত্তা খুঁজছেন।”

আপনি কোথায় গিয়েছেন, কী কাজ করেছেন—এসব স্বাভাবিকভাবে জানালে তার মনে আস্থা তৈরি হতে পারে।

২. সংবেদনশীল বিষয়গুলো বুঝতে চেষ্টা করুন: অনেক সময় আমরা জানি কোনো একটি বিষয় জীবনসঙ্গীর কাছে স্পর্শকাতর, তবুও বারবার সেই বিষয়টিই সামনে নিয়ে আসি। এতে তার অনিরাপত্তাবোধ আরও বেড়ে যায় এবং তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

তাই যে বিষয়গুলোতে আপনার স্বামী বেশি সংবেদনশীল, সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা পরিস্থিতি নিয়ে যদি তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেন, তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে তার অনুভূতির কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।

৩. খোলামেলা ও আন্তরিক সংলাপ গড়ে তুলুন: মানুষের মধ্যে আন্তরিক ও স্বচ্ছ কথোপকথনের শক্তি অসাধারণ। একটি শান্ত সময় বেছে নিয়ে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন।

তাকে বলতে পারেন, “আমরা ৩০ বছর ধরে একসঙ্গে জীবন কাটাচ্ছি। আমি কি কখনও এমন কিছু করেছি, যাতে আমার প্রতি তোমার আস্থা নষ্ট হওয়ার কারণ আছে? যখন তুমি আমাকে সন্দেহ করো বা বারবার প্রশ্ন করো, তখন আমি কষ্ট পাই। আমি চাই তুমি আমার অনুভূতিটা বুঝতে চেষ্টা করো।”

ভালোবাসা, সম্মান ও যুক্তির সঙ্গে কথা বললে অনেক কঠোর মনোভাবও ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে। হয়তো দীর্ঘদিনের সম্পর্কে পর্যাপ্ত উষ্ণতা ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

মানুষের স্বভাবই হলো সংলাপের মাধ্যমে একে অপরের কাছাকাছি আসা। তাই আলোচনা বন্ধ না করে বরং আরও আন্তরিক ও গভীর করুন। একই সঙ্গে নিজের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ধৈর্য ধরুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জীবনসঙ্গী দ্রুত পরিবর্তিত না হলেও আপনি নিজের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন। অনেক সময় একজনের সচেতন পরিবর্তনই সম্পর্কের সামগ্রিক পরিবেশকে উন্নত করে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনের পথ তৈরি করে।

সূত্র: হাওজা নিউজ এজেন্সি

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha